"রংপুর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
(reverted vandalism)
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
  +
বাংলাদেশের মফিজ এলাকা বলে পরিচিত রংপুরের অবস্থান ক্ষুধা আর দারিদ্রের মাঝে। এখানকার মানুষেরা সাধারণত মফিজ নামে পরিচিত। অল্পবুদ্ধি এবং কান্ডজ্ঞানহীন মানুষের এলাকা রংপুর যেতে হয় যমুনা সেতু ওরফে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে। সেতু হবার আগে রংপুর যাওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। সেতু হবার পর রংপুর যাওয়াটা বেশ সহজ হয়ে গেছে। তবে অন্য একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেতুর সুবিধা নিয়ে রংপুরের মফিজরা সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তিস্তা ও ঘাঘট বিধৌত রংপুর বাংলা মুলুকের অন্যতম প্রাচীন জনপদ। উত্তরাঞ্চলের রাজধানী। একথা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত রংপুরের প্রাচীন নাম হলো রঙ্গপুর তথা প্রমোদপুরী। প্রমোদ বিলাসের অন্যতম অনুষঙ্গ রসনা। রসনা বিলাসে রংপুর বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই। আমার লেখাটি যাঁরা রংপুর শহরে আসবেন তাঁদের সাহায্য করবে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবারের জায়গাগুলো চিনে নিতে।
 
   
  +
==রংপুরের অফিস আদালত==
রংপুরে খাবারের অনেক জায়গাই রয়েছে। মডার্ন মোড় থেকে সিও বাজার, মাহিগঞ্জ থেকে দর্শনা; পুরনো অনেক জায়গাই আছে যেগুলো প্রবীণদের নস্টালজিয়ায় ভোগায়। আমরা যারা তরুণ তাদের জন্যও আছে বিস্তর আয়েশ করে উদরপূর্তি করার জায়গা। রংপুর শহরের প্রসিদ্ধ রসনা সিদ্ধির জায়গাগুলোর উল্লেখ করছি নিচে।
 
  +
রংপুরের সবই আছে। যত রকমের অফিস চান তার সবই রংপুরে আছে। নাই শুধু কামের লোক। রংপুরের জমিদারবাড়ীতে যেয়ে দেখবেন হাইকোর্টের বেঞ্চও সেখানে ছিল। এরশাদ চাচ্চু বানাইছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলির গোয়ার্তুমিতে এখন রংপুরের লোকজনের উচ্চ আদালতে মামলা চালাইতে যাইয়া বাস ভাড়া, বাড়ী ভাড়া দিয়া ঢাকা আসতে হয়। এতে রংপুরের মঙ্গাপীড়িত অর্থনীতিতে বেশ চাপ পড়ে।
   
  +
==রংপুরের দর্শনীয় স্থান==
  +
রংপুরের নাম নিলে নাম নিতে হয় বেগম রোকেয়ার। পায়রাবন্দে অবস্থিত বেগম রোকেয়ার বাসস্থান বা বসতভিটা দেখতে গেলে টাস্কি খাইবেন। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসস্তুপও এর থেকে ভাল অবস্থায় আছে। বেগম রোকেয়া অনেক আগেই কলিকাতায় বসত গাড়ছিলেন বাংলাদেশের টাট্টিবাট্টি রেখে। উনার বসতবাড়ী দেখতে গেলে কমপক্ষে দুইশ টাকা রিকশা ভাড়া বরাদ্ধ রাখবেন। আর আফসুস খাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি রাখবেন। এবং সবশেষে টাস্কি খাওয়ার প্রস্তুতি রাখবেন। উনার বসতবাড়ী দেখার পর হীনমন্যতায় ভোগা আবশ্যক। কারণ আপনার তখন মনে হবে, এই এক অজ পাড়া গায়ে, শত বর্ষ আগে, বৈদ্যুতিক বাতি ছাড়া এক মহিলা সমাজের জাল ছিন্ন করে সারা বাঙ্গালী জাতীকে, বাঙ্গালী নারী জাতীকে যা দিয়েছেন, আপনি ঢাকায় বসে তার কানাকড়িও দেন নি। বেগম রোকেয়ার তুলনায় আপনার নিজেকে একজন বালস্য বাল হরিদাস পাল মনে হওয়া বাঞ্চনীয়।
   
  +
==রংপুরের খাবার দাবার==
সিঙ্গারা হাউজঃ রংপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিঙ্গারার দোকান। সিঙ্গারার পাশাপাশি এখানে চা, লাচ্ছি, রস মালাই পাওয়া যায়। এখানে সিঙ্গারা খেতে হলে বেশ খানিকক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। ভীড় লেগেই থাকে। এক প্লেটে তিনটে খুদে সিঙ্গারার সাথে মিলবে আনকোরা টমেটোর চাটনি। স্কুল পালিয়ে এখানে অনেক দার্শনিক চিন্তা ভাবনার জন্মদান করেছি। মান্না দের কফি হাউজ আমাদের রংপুরে এসে বিবর্তিত হয়ে সিঙ্গারা হাউজ হয়ে গেছে। যারা রংপুরে আসবেন তাদের মিস না করার জন্য অনুরোধ করছি।
 
  +
রংপুর মঙ্গাপীড়িত হবার কারণে খাবার দাবারের দিক দিয়ে খুব উন্নত নয়। তবে হোটেলে বদমাশ বেটারা দাম কম রাখে না। রংপুরের হোটেলগুলোতে, বিশেষ করে ছাপড়া হোটেলগুলোর জিলাপী বেশ ভাল। পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।
   
  +
পরবর্তীতে যে এই পাতাখানা এডিট করবেন আমার জন্য পাতার শেষে "মন্তব্য করুন" নামক প্যারাগ্রাফে কিছু বলে যেয়েন।
অবস্থানঃ সুপার মার্কেট থেকে পায়রা চত্বরের দিকে যেতে ডান পাশের গলিতে ঢুকলেই হবে।
 
 
পুষ্টিঃ ‘পুষ্টির অনন্য সৃষ্টি/ দই ঘি মিষ্টি।’ এই হল পুষ্টির স্লোগান। রংপুরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মিষ্টান্নের দোকান। রসোগোল্লা, রসমালাই, দই, সন্দেশ, স্পঞ্জ মিষ্টি থেকে শুরু করে সবই পাওয়া যায়। এদের দইটাও বেশ। আমার বগুড়ার এক বন্ধুকে খাওয়ানোর পর ব্যাটা বাধ্য হয়েছিল ‘বগুড়ার চেয়েও ভালো’ বলতে!
 
 
অবস্থানঃ সিঙ্গারা হাউজ যাওয়ার গলির মুখেই।
 
 
ঘোষ ভান্ডারঃ মিষ্টির জন্য ভালো আরেকটি দোকান। নিপেন ঘোষের নামানুসারে জায়গাটার নামই হয়ে গেছে নিপেনের মোড়! ঘোষরা পারিবারিকভাবেই দোকানটা চালাচ্ছে ।এখানকার চা টাও বেশ। মিষ্টান্নপ্রেমীদের অবশ্যই ভালো লাগবে।
 
 
অবস্থানঃ পায়রা চত্বর, ‘নিপেনের মোড়’।
 
 
জলযোগঃ পুরনো আরেকটি মিষ্টির দোকান। এখানকার সন্দেশ খুবই প্রসিদ্ধ। জলযোগ নামটাই এখানে কী কী পাওয়া যায় তা বলে দেয়। মূলত সকাল-বিকেল নাস্তা করার জন্য আদর্শ জায়গা।
 
 
অবস্থানঃ বেতপট্টি।
 
 
নিরঞ্জন মিষ্টিমুখঃ মাহিগঞ্জে (পুরনো রংপুর) নিরঞ্জনের অবস্থান। মোটামুটি সব ধরণের মিষ্টিই পাওয়া যায়। রংপুরের বাইরের মানুষও নিরঞ্জন থেকে মিষ্টি কিনতে আসেন। নিরঞ্জনে মিষ্টি খেতে যাওয়ার অন্যতম মজা হচ্ছে মাহিগঞ্জ দর্শন। পুরনো ভবনে সেখানে মিলবে ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। মাহিগঞ্জে বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির আছে। মাহিগঞ্জ বাজারের পাশেই আছে ১৮৩০ এর দশকে নির্মিত ‘মাহিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’র পরিত্যক্ত ভবন। আর বিখ্যাত তাজহাট জমিদার বাড়িও এখান থেকে পায়ে হাঁটার পথ। উপরি হিসেবে ডিমলার জমিদার বাড়িও দেখে নিতে পারেন।
 
 
অবস্থানঃ মাহিগঞ্জ।
 
 
চটপটি হাউজঃ জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় দোকান। আপু ও আন্টিদের সবসময়ই এর সামনে গিজ গিজ করতে দেখা যায়। ছেলেরা যে এখানে আসে না তাও না। প্রতি প্লেট চটপটি ২০ টাকা। ছোটবেলা থেকে খাচ্ছি। এখনো এখানে খাওয়ার আমন্ত্রণ এড়াতে পারি না।
 
 
অবস্থানঃ জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট।
 
 
নাড়ুর হোটেলঃ নাড়ুর হোটেলের বিশেষত্ব কড়া মিষ্টি এক ধরণের চা। তরুণ সমাজে এটি ‘ডাইল চা অথবা পিনিক চা’ নামে পরিচিত। এখানে গুড়ের মিষ্টি এবং মিষ্টির সিরা দিয়ে খাওয়ার জন্য পুরি পাওয়া যায়। ছোট্ট পরিসরের এই দোকানে ভীড় লেগেই থাকে।
 
 
অবস্থানঃ স্টেশন রোড, সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার বিপরীতে।
 
 
মৌবনঃ মৌবন নিঃসন্দেহে রংপুরের সেরা বেকারি। এর হোটেল শাখাও কম বিখ্যাত নয়। ইফতারের জন্য এখানে বৈচিত্র্যময় অনেক কিছুই পাওয়া যায়। শুধু রংপুর নয়, এর আশেপাশের অনেক জেলার মানুষের ঈদের ফর্দের অন্যতম অনুষঙ্গ মৌবনের লাচ্ছা সেমাই।
 
 
অবস্থানঃ কাচারী বাজার।
 
 
খালেক হোটেলঃ খালেক হোটেল মধ্যবিত্তের প্রিয় খাবারের জায়গা। পুর্বে নিপেনের মোড়ে অবস্থান হলেও বর্তমানে এটি জিপি সেন্টার তথা নর্থ ভিউয়ের বিপরীতে অবস্থিত। খালেক হোটেল খাসির মাংসের জন্য সুখ্যাত। বাজেটে কুলায় বলে অনেক সময়েই মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তের প্রিয়তম উদরপূর্তির জায়গা।
 
 
অবস্থানঃ
 
 
বৈশাখীঃ বাঙালি খাবারের অন্যতম রেস্তরাঁ। এর দুটি শাখা আছে। একটি জাহাজ কোম্পানির মোড়ে আরেকটি মেডিকেল মোড়ে ক্যান্ট পাবলিক স্কুলের সামনে। এখানে মোটামুটি সকল ধরণের বাঙালি খাবারই পাওয়া যায়। পরিবেশ সুন্দর। বেশ পারিবারিক আমেজে খাওয়া যায়। বৈশাখীর চা স্পেশাল। বিরিয়ানি থেকে ভাত-মাংসের জন্য একটা সেরা পছন্দ হতে পারে বৈশাখী।
 
 
অবস্থানঃ জাহাজ কোম্পানির মোড়, মেডিকেল মোড়।
 
 
চাঁদনি, পারভেজ ও স্টার হোটেলঃ উদরপূর্তির জন্য ভালো জায়গা এই তিন রেস্টুরেন্ট। তিনটির অবস্থানই মেডিকেল মোড়ে। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি কাবাব-নান পাওয়া যায়। পারভেজ হোটেলে আমার প্রিয় খাবার ডিম সিঙ্গারা। কলেজ পালিয়ে এখানে প্রচুর আড্ডা দিতাম। ক্যান্ট পাবলিকের ছাত্রদের অতিপ্রিয় আস্তানা।
 
 
অবস্থানঃ মেডিকেল মোড়।
 
 
সিসিলিঃ রংপুরের অন্যতম পুরনো চায়নিজ রেস্টুরেন্ট। অবস্থান রাজা রামমোহন রায় মার্কেটের দোতলায়। থাই ও চায়নিজ বেশিরভাগ আইটেমই পাওয়া যায়। দামও চলনসই। এখানকার আলো আঁধারি প্রেমিক প্রেমিকাদের বেশ প্রিয়! নতুন অনেক রেস্টুরেন্টের ভিড়ে এখনও মানুষের প্রথম পছন্দ।
 
 
অবস্থানঃ রাজা রামমোহন রায় শপিং কমপ্লেক্স।
 
 
ঢাকা ফাস্টফুডঃ মূলত তরুণ সমাজেই বেশী জনপ্রিয়। বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি পাওয়া যায়। দু’কাপ কফি অথবা দুটো আইসক্রিম নিয়ে মুখোমুখি বসে অনেকটা সময় কাটনো যায়! কাঁচা বয়সের ছেলে-মেয়েদের খুবই পছন্দের জায়গা।
 
 
অবস্থানঃ ধাপ, জেল রোড।
 
 
নর্থ ভিউঃ নর্থ ভিউ রংপুরের প্রথম চার তারকা হোটেল। বারতলা এ ভবনে কর্পোরেট অনেক প্রতিষ্ঠানেরই অফিস রয়েছে। নর্থ ভিউ হোটেলে সুইমিং পুল সহ আধুনিক অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে এর রেস্টুরেন্ট। ন তলায় অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটি অবস্থানের দিক থেকে রংপুরের সেরা। বাঙালি, চায়নিজ, থাই, ফাস্টফুড সবই পাওয়া যায়। এর সবচেয়ে সুবিধা কাঁচের ঘেরাটোপ ভেদ করে বাইরের সুনিবিড় দৃশ্য। রেস্টুরেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখির চোখে রংপুর শহরের উত্তরাংশ দেখে নেয়া যায়। ইট-পাথরের অভিবাসী উৎপাতের আমার শহরটাকে দেখে মনে হয় সবুজের মাঝে ডুবে থাকা বিলুপ্ত প্রাচীন জনপদ। হারিয়ে যাওয়া এল ডোরাডোর মতো।
 
 
মিড নাইট সানঃ জনপ্রিয় একটি চাইনিজ খাবারের রেস্টুরেন্ট হল মিড নাইট সান। ঢাকার নাম করা রেস্টুরেন্টটিরই একটি শাখা এটি। চায়নিজ খাবারের জন্য সুখ্যাত। বেশ সাশ্রয়ী।
 
 
অবস্থানঃ ডিসির মোড় (হালের পার্লারের মোড়!)
 
 
ক্যাস্পিয়াঃ সুন্দর ইন্টেরিয়রের চায়নিজ রেস্টুরেন্টটির বয়স বেশী নয়।। বাইরে থেকে দেখলেই ভিতরে যেতে ইচ্ছে করে। প্রায় সব জনপ্রিয় চায়নিজ খাবার পাওয়া যায়। দাম চলনসই। রংপুরের তরুণ-যুবার কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর অবস্থানও সহজগম্য।
 
 
অবস্থানঃ রংপুর সার্কিট হাউজের সামনে।
 
 
খেয়া পার্ক রেস্টুরেন্টঃ পার্কের মতো মুক্ত, প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে খাওয়ার জন্য খুব সুন্দর একটা জায়গা। খেয়া পার্ক রেস্টুরেন্টে প্রবেশের জন্য এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা শ্যামা সুন্দরী খালের ওপর দিয়ে একটা কাঠের সাঁকো পেরোতে হয়। এতে কাঠ-বাঁশের কেবিনগুলো বাংলার বিখ্যাত নদীগুলোর নাম অনুসরণে রাখা হয়েছে। ডেটিং এর জন্য স্বর্গতুল্য। আইসক্রিম থেকে শুরু করে চায়নিজ ও ফাস্টফুডের প্রায় সব আইটেমই পাওয়া যায়। নিঃসন্দেহে রংপুরের সবচেয়ে প্রাকৃতিক রেস্টুরেন্ট ‘খেয়া পার্ক’।
 
 
অবস্থানঃ পার্ক মোড়।
 

০৬:৩৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

বাংলাদেশের মফিজ এলাকা বলে পরিচিত রংপুরের অবস্থান ক্ষুধা আর দারিদ্রের মাঝে। এখানকার মানুষেরা সাধারণত মফিজ নামে পরিচিত। অল্পবুদ্ধি এবং কান্ডজ্ঞানহীন মানুষের এলাকা রংপুর যেতে হয় যমুনা সেতু ওরফে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে। সেতু হবার আগে রংপুর যাওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। সেতু হবার পর রংপুর যাওয়াটা বেশ সহজ হয়ে গেছে। তবে অন্য একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেতুর সুবিধা নিয়ে রংপুরের মফিজরা সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

রংপুরের অফিস আদালত[সম্পাদনা]

রংপুরের সবই আছে। যত রকমের অফিস চান তার সবই রংপুরে আছে। নাই শুধু কামের লোক। রংপুরের জমিদারবাড়ীতে যেয়ে দেখবেন হাইকোর্টের বেঞ্চও সেখানে ছিল। এরশাদ চাচ্চু বানাইছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলির গোয়ার্তুমিতে এখন রংপুরের লোকজনের উচ্চ আদালতে মামলা চালাইতে যাইয়া বাস ভাড়া, বাড়ী ভাড়া দিয়া ঢাকা আসতে হয়। এতে রংপুরের মঙ্গাপীড়িত অর্থনীতিতে বেশ চাপ পড়ে।

রংপুরের দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

রংপুরের নাম নিলে নাম নিতে হয় বেগম রোকেয়ার। পায়রাবন্দে অবস্থিত বেগম রোকেয়ার বাসস্থান বা বসতভিটা দেখতে গেলে টাস্কি খাইবেন। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসস্তুপও এর থেকে ভাল অবস্থায় আছে। বেগম রোকেয়া অনেক আগেই কলিকাতায় বসত গাড়ছিলেন বাংলাদেশের টাট্টিবাট্টি রেখে। উনার বসতবাড়ী দেখতে গেলে কমপক্ষে দুইশ টাকা রিকশা ভাড়া বরাদ্ধ রাখবেন। আর আফসুস খাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি রাখবেন। এবং সবশেষে টাস্কি খাওয়ার প্রস্তুতি রাখবেন। উনার বসতবাড়ী দেখার পর হীনমন্যতায় ভোগা আবশ্যক। কারণ আপনার তখন মনে হবে, এই এক অজ পাড়া গায়ে, শত বর্ষ আগে, বৈদ্যুতিক বাতি ছাড়া এক মহিলা সমাজের জাল ছিন্ন করে সারা বাঙ্গালী জাতীকে, বাঙ্গালী নারী জাতীকে যা দিয়েছেন, আপনি ঢাকায় বসে তার কানাকড়িও দেন নি। বেগম রোকেয়ার তুলনায় আপনার নিজেকে একজন বালস্য বাল হরিদাস পাল মনে হওয়া বাঞ্চনীয়।

রংপুরের খাবার দাবার[সম্পাদনা]

রংপুর মঙ্গাপীড়িত হবার কারণে খাবার দাবারের দিক দিয়ে খুব উন্নত নয়। তবে হোটেলে বদমাশ বেটারা দাম কম রাখে না। রংপুরের হোটেলগুলোতে, বিশেষ করে ছাপড়া হোটেলগুলোর জিলাপী বেশ ভাল। পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

পরবর্তীতে যে এই পাতাখানা এডিট করবেন আমার জন্য পাতার শেষে "মন্তব্য করুন" নামক প্যারাগ্রাফে কিছু বলে যেয়েন।