রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিখ্যাত বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড নোবেল বলেছিলেন, "রবীন্দ্রনাথ হলেন তিনি, যিনি কাগজ ও কলম কেনার জন্য জীবনে এ্যাত্তোগুলা টাকা খরচ করেছিলেন যে কেচি ও ক্ষুর কেনার জন্য আর কোনো টাকা ছিল না।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে, ১৮৬১ - ৭ আগস্ট, ১৯৪১) হলেন বিশিষ্ট ভারতীয় গুরুদেব। কিন্তু, গুরুদেব হলেও তিনি যোগব্যায়ামে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন না। বরং, নিয়মিত যোগব্যায়াম না করার কারণে তিনি জীবনের বেশীরভাগ সময়ই রোগে ভুগতেন। তাই বিলাতে গিয়ে ব্যারিস্টারিও পাশ করতে পারেন নাই। পাশ্চাত্যের হিপহপ সংগীত ও ইসলামিক গজলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিশেষ দুর্বলতা ছিল। গীতাঞ্জলীর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন গজলের কারণে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার লাভ না করে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। উল্লেখ্য, হিলারি ক্লিনটনের সাথে বন্ধুত্ব না থাকা সত্ত্বেও এশীয়দের মধ্যে ড. ইউনুসের অনেক আগে তিনিই সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান।

শৈশব, কৈশোর ও যৌবন[সম্পাদনা]

শিশুকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতার নাম সারদাসুন্দরী দেবী। বাল্যকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথের পড়াশোনায় কোনো আগ্রহ ছিল না, বরং, মুখে মুখে কবিতা বানিয়ে সেগুলো আবৃত্তি করাতেই তার আগ্রহ ছিল বেশী। সে পাড়ার সুমন-অঞ্জন-নচিকেতাদের সাথে রকে বসে আড্ডা দিয়েই বেশীরভাগ সময় কাটাত। ছেলের এই সুমতি দেখে তার বাবা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে, রবীন্দ্রনাথের বাবার অনেক পয়সা ছিল। তাই, তিনি তার ছেলের জন্য বাসাতেই পড়াশোনার বন্দোবস্ত করেছিলেন। কিন্তু, প্রাইভেটে এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেওয়ার সময় রবীন্দ্রনাথ শক্ত কলেরা বাঁধিয়ে বসেন। ফলে, তার পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়। তখন, তার বাবা দেবেন্দ্রনাথ বিপুল অর্থ ডোনেশনের বিনিময়ে দেশের স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের কমার্স ডিপার্টমেন্টে পুত্রকে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু, সেখানে তিনি পড়ালেখা না করে সুন্দরী আপ্পিদের পটাতে নিত্যনতুন কবিতা লিখতে বেশী মনোযোগী ছিলেন। ফলে, যা হবার তাই হলো, তৃতীয় সেমস্টার না পেরুতেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হলো। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার রাগ তিনি দীর্ঘদিন মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। তিনি প্রায়ই গার্লফ্রেন্ডদের বলতেন, "বুয়েট আমাকে গান আর কবিতা লিখতে দেয় নাই। তোরা দেখিস, আমি নিজেই একটা বিশ্ববিদ্যালয় বানায়া সেইখানে গাছের তলায় বইসা গান বাজনা করব। আমিই হব সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেডমাস্টার। তখন কোন শালা আমাকে ঠেকায় দেখে নিব।" এই রাগেরই ফলাফল স্বরূপ তিনি "শান্তিনিকেতন" ও "বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা করেন।

বুয়েট থেকে বের করে দেওয়ার পর রবীন্দ্রনাথের বাপ সংসারে ছেলের মতি ফিরিয়ে আনতে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। রবীন্দ্রনাথ বিবাহ করেন মৃণালিনী দেবী নাম্নী ১১ বছর বয়স্কা এক বালিকাকে। এর কিছুকাল পরেই তার পিতা তাকে বিলাতে ব্যারিস্টারি পড়াতে পাঠান। একে তো ঘরে সুন্দরী বালিকা বধু, তার উপরে রোগা শরীর - এই দুয়ে মিলে রবীন্দ্রনাথ বিলাতেও মন টেকাতে পারলেন না। ব্যারিস্টারি পড়া ক্ষান্ত দিয়ে ফিরে এলেন দেশে।

বিলাতে থাকাকালেই তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে যায়। সারারাত কাটাতেন স্ত্রীর সঙ্গে স্কাইপিতে ভিডিও চ্যাট করে। তিনি ব্লগ দিয়ে ইন্টারেনট চালিয়ে লিখতেন কবিতা ও গান। আর, সেগুলো শেয়ার করতেন তার ফেসবুক একাউন্টে। তিনি গান বানিয়ে আপলোড করতেন সাউন্ডক্লাউডে। এভাবেই সারাবিশ্বে তার কবিতার নাম-খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তার ভক্ত সংখ্যা বাড়তে থাকে। অপর ভায়োলিন বাদক এলবার্ট আইনস্টাইনও তার বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। এইভাবেই তিনি একসময় ফেসবুক সেলিব্রিটিতে পরিণত হন। আরিফ আর হোসেনের পরেই তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার সর্বোচ্চ লাইকপ্রাপ্ত ফেসবুকার।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

রবিঠাকুর ও তার আইফোন -৫

বিভিন্ন তথ্যপ্রমানে পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি স্লাইটলি মুরাদ টাকলা ছিলেন। মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত আইফোন -৫ এর তথ্য ঘেঁটে জানা যায়, তিনি তার বান্ধবীদের সাধারণত বাংলিশে টেক্সট করতেন। তার একাধিক প্রেমিকা নিশ্চিত করেন যে, তিনি মুরাদ টাকলা ছিলেন। যদিও এর সত্যতা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েই গেছে।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

রবীন্দ্রনাথের প্রধান শখ ছিল প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য জাতীয় সংগীত রচনা করা। জাতীয় সংগীত লেখার পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল সংগীত, জারি-সারি-ভাটিয়ালি, মাইজভান্ডারি গান রচনা করেছেন। সংগীতে তার বিশেষ মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় ইসলামিক গজল রচনায়। তিনি তার রচিত গানে রূপকের মাধ্যমে ইসলামিক ঐতিহাসিক নানান কাহিনী ও ইসলামী রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় --

রাতে লন্ডনের রাণীকে চলন্ত গাড়ীতে বেড়ানোর ঘটনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন --

"চলেছ পথিক আলোকযানে আঁধার-পানে

মনভুলানো মোহনতানে গান গাহিয়া।"


ছাদ্দামকে মরু ভূমিতে গুহায় লুকানোর উদ্দেশ্য করে কবি লিখেছিলেন --

"তুমি পার হয়ে এসেছ মরু, নাই যে সেথায় ছায়াতরু

পথের দুঃখ দিলেম তোমায় গো এমন ভাগ্যহত।"


ভাবির ঘরে রাত কাটিয়ে সকালে উঠতে দেরীর কথা বলতে গিয়ে কবি লিখেছেন --

"কেন যামিনী না যেতে জাগালে না

বেলা হলো মরি লাজে।"

রবীন্দ্রনাথ কবিতা লিখতেন মূলত প্রেমিকাদের মন জয় করতে। কিন্তু, তিনি ভাবতেও পারেন নাই যে, তার লেখা কবিতা পরবর্তীতে পাবলিকে এতো খাবে এবং বাচ্চাদের পাঠ্যবইয়ে তার কবিতা সংযুক্ত হয়ে তাদের বিশেষ যন্ত্রণা সৃষ্টি করবে। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ শেষ বয়সে খুবই অনুতপ্ত ছিলেন। তবে, তার আর কিছুই করার ছিল না। রবীন্দ্রনাথের বেশীরভাগ গানই সুর করেন তারই তিন বাল্যবন্ধু সুমন-অঞ্জন-নচিকেতা। এইসব গান বর্তমানে সমাজে তরুণদের কাছে ব্যাকডেটেড বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে, আঁতলামি করার জন্য কিছু তরুণ-তরুণী আজও রবীন্দ্রসংগীত চর্চা করে থাকে। তবে, ট্রাস্ট মি, গানগুলো সত্যিই ব্যাকডেটেড।

রবীন্দ্রনাথ কিছু ছোটগল্প লিখেছেন। সেগুলো রবীন্দ্রচটি সংকলন "গল্পগুচ্ছ" তে সংকলিত হয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ তেরটি উপন্যাস লিখেছেন। এই তেরটি উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩), রাজর্ষি (১৮৮৭), চোখের বালি (১৯০৩), নৌকাডুবি (১৯০৬), প্রজাপতির নির্বন্ধ (১৯০৮), গোরা (১৯১০), ঘরে বাইরে (১৯১৬), চতুরঙ্গ (১৯১৬), যোগাযোগ (১৯২৯), শেষের কবিতা (১৯২৯) ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ বেশকিছু নাটক লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলো হিট করতে পারে নাই। কারণ, কোনো চ্যানেলই সেগুলো প্রচার করতে রাজী হয় নাই। এছাড়া তার কিছু প্রেমপত্রও সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ সমাজের নানান বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝেই জ্ঞান দিতে ভালবাসতেন। এইসব জ্ঞানদায়ক কথাবার্তা তার প্রবন্ধসংকলনেও পাওয়া যায়। তাছাড়া, বড়লোকের পোলা হওয়ায় তিনি ছবি আঁকতে গিয়েও জীবনে বহু পয়সা, সময়, রং ও কাগজের অপচয় করেছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

কাম অন ম্যান! আর লিখতে পারছি না। নিদারুণ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে রবীন্দ্রনাথ অবশেষে ৭ আগস্ট ১৯৪১ সালে মারা যান। কিন্তু, তার মৃত্যুর পরে আজও একটি প্রশ্ন থেকেই যায় - "ক্যামনে পারো ম্যান????"