গিটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

গিটার হলো মেয়ে পটানোর একটি যন্ত্রবিশেষ। এছাড়া অবসর সময়ে এটা দিয়ে সামান্য গানও বাজানো যায়। হাটে মাঠে ঘাটে গিটার নিয়ে বসে থাকলে মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।[১] গিটারিস্টদের দেখলে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও একরকম অর্গাজম হয়। তবে, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক বিশেষ শ্রেণীর ছেলেদের গিটারিস্ট দেখলে বেশী অর্গাজম হয়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এদের "মেটালহেড" বলা হয়।


কেউ যদি কোনদিন দেখতে পায় যে অপরাহ্ণের সময় বাড়ির ছাদের টাংকির উপর কোন ছেলে একাকী একটি একুস্টিক গিটার হাতে আরোহন করেছে এবং টুংটাং শব্দ সহকারে নিবিষ্ট মনে উহার দিকে তাকিয়ে আছে তবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, গিটার বাজানোই তার উদ্দেশ্য নয়। নিশ্চিতভাবেই তার বাড়ির আশেপাশে কোন সুন্দ্রী রমনী বসবাস করে। এই থিওরী অনুসরন করে গিটারবাদকের দৃষ্টি অনুসরন করে গিটারনাবাদকেরা সুন্দ্রী মেয়ে খুঁজিয়া পাইতে পারে। তবে উহা প্রেমের ফলাফলে কোন পার্থক্য বহন করে না। গিটারনাবাদকেরা সাধারনত গিটারবাদকের কাছে পরাজয় স্বীকার করে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

গিটারের উৎপত্তি প্রাচীন বঙ্গ জনপদে। এই জনপদের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ সাজ্জাদ আরেফীন[২] সর্বপ্রথম গিটার আবিষ্কার করেন এবং গিটার শেখার সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় "গিটার নেভার লাইজ"[৩] এর গোড়াপত্তন করেন। প্রাচীন বঙ্গ জনপদে এটিই ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীত বিশ্ববিদ্যালয়। গিটার আবিষ্কারের ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিন সাজ্জাদ আরেফিন ও বঙ্গ জনপদের অপর বিশিষ্ট সারেঙ্গীবাদক বেজবাবা সুমন[৪] বঙ্গের রাজা আরফীন রুমি'র[৫] রাজপ্রাসাদের অদূরেই ভোরবেলা রেওয়াজ করছিলেন। এতে বঙ্গরাজ আরফীন রুমী'র দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এতে স্ত্রীর মাথা ঠান্ডা করতে বঙ্গরাজ আরফীন, রুমী সাজ্জাদ আরেফীন ও বেজবাবা সুমনকে গাধার পিঠে চড়িয়ে গ্রামের বাইরে বের করে দেন। তারা দুজনে মনের দুঃখে বাঁশবাগানে হাঁটতে থাকেন। এমন সময় সন্ধ্যা নামলে সেখানে ভূতের রাজা শাকিব চৌধুরী আসেন। শাকিব চৌধুরী সাজ্জাদ আরেফীন ও বেজবাবা সুমনকে দুটি বাদ্যযন্ত্র উপহার দেন যা যথাক্রমে গিটার ও বেজ গিটার নামে বর্তমান বিশ্বে পরিচিত।

উল্লেখ্য, সাজ্জাদ আরেফীন ও বেজবাবা সুমনের এই ভুবনবিখ্যাত কাহিনী নিয়ে কথাসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় "গুপী গাইন, বাঘা বাইন" নামক একটি গল্প লেখেন এবং অপর বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় সেই গল্প নিয়ে ছবি নির্মান করেন।

সাজ্জাদ আরেফীন বরপ্রাপ্ত গিটার নিয়ে পরবর্তীতে নিজগ্রাম হরিতকিতে ফিরে আসেন এবং লোকাল কমুনিটি রেডিও এবিসি রেডিওতে "গিটার নেভার লাইজ" বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা প্রচার করতে থাকেন। সাজ্জাদ আরেফীনের এই "গিটার নেভার লাইজ" বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক পার্থ বড়ুয়া এবং শালবন বিহারের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক আইয়ুব বাচ্চু দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেন। গিটার নেভার লাইজের উজ্জ্বল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন অনন্ত জলিল[৬] , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [৭] , সাদেকুলের ভাই নাছির, ব্রেট লি[৮] প্রমুখ।

ইলেকট্রিসিটি ছাড়াই বিশেষ পদ্ধতিতে গিটার বাজাচ্ছেন অনন্ত জলিল
ব্রেট লি

এখন, আপনারা হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন - What happened to Bassbaba?

Well, বেজবাবা তার বেজ গিটার আর পকেটে হারমোনিকা নিয়ে অদ্ভুত সেই ছেলেটির মত রাস্তায় বেরিয়ে যান। হাঁটতে হাঁটতে শেষ পর্যন্ত তিনি কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় লালনের আস্তানায় এসে পৌঁছান। সেখানে বাউল সাধক হাসন রাজার কাছ থেকে তিনি সিদ্ধি লাভ করেন এবং হাসন রাজার সঙ্গে একটি ব্যান্ড তৈরি করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, তিনি হাসন রাজার মাত্র একটি গানই বাজাতে পেরেছিলেন, সেটি হল - কান্দে হাসন রাজার মন মুনিয়া রে...

অতঃপর তিনি অর্থহীন প্রেত সাধনার দিকে জড়িয়ে পড়েন। তার সঙ্গে এসে জোটে আরও কিছু অদ্ভুত ছেলে। তারা সবাই মিলে ভূতের রাজা শাকিব চৌধুরীকে খুঁজতে শুরু করে। সেই থেকেই মূলত ভৌতিস্ট টিমের পদচারণা শুরু হয়।

তার "বেজবাবা" উপাধি নিয়ে নানান ধরণের মতবাদ প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, ভূত সাধনার পাশাপাশি বেজবাবা সুমন তাবিজ-কবজও বিক্রি শুরু করেন। তার তাবিজের তাজ্জব ফলে খুশী হয়ে এক ভক্ত তাকে "বেজবাবা" উপাধি দেন। সেই থেকেই তিনি বেজবাবা সুমন নামেই পরিচিত।

আবার কেউ কেউ বলেন, শৈশবকাল থেকেই উনার পড়াশোনার মাথা খুবই ভাল ছিল। ম্যাথ এবং ইংরেজিতে তার বেজ নাকি খুবই শক্ত ছিল। উনি নাকি গাইড বই ছাড়াই ম্যাথের সমাধান করতে পারতেন। তার এই শক্তিশালী বেজের প্রমান পেয়েই স্কুলের বন্ধুরা তাকে বেজবাবা উপাধী দিয়েছিলেন।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

পৃথিবীতে বহু ধরণের গিটার রয়েছে। যেমন: ছোট গিটার, বড় গিটার এবং মাঝারি গিটার। ছোট গিটার দিয়ে ছোট ছোট মেয়েদের এবং বড় গিটার দিয়ে বড় বড় মেয়েদের পটানো যায়। আর মাঝারি সাইজের গিটার দিয়ে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাইকেই পটানো যায়। আর ইলেক্ট্রিক গিটার হলে তো কোন কথাই নেই।

গিটারিস্ট[সম্পাদনা]

যারা হার্ডরক, হেভিমেটাল এবং থ্রাস মেটাল শোনেন এবং টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাদের গিটারিস্ট বলে। এছাড়াও যারা "রক" নির্দেশক সংকেতটি হাতের তর্জনী এবং কনিষ্ঠা আঙুলের মাধ্যমে দেখাতে পারেন এবং একইসাথে জিহবা বের করে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলতে পারেন তারাই গিটারিস্ট। গিটারিস্টদের সাধারণত অনেক ভক্ত থাকে। এর মধ্যে ছেলে ভক্তদের তারা হেভি মেটাল বা থ্রাস মেটাল গান শুনিয়ে থাকেন। কারণ, এতে ভক্তরা "হেডব্যাং" নামক একপ্রকার অঙ্গভঙ্গী করে মাথার তার ছিঁড়ে ফেলার ভঙ্গী করে। ভক্তদের মাঝে পরিচালিত এক সমীক্ষায় জানা যায়, এই হেডব্যাং তারা সাধারণত কোনোকিছু না বুঝেই করে থাকেন। অনেকক্ষেত্রে হেডব্যাং না করলে অন্য মেটালহেড বন্ধুদের কাছে নিজেদের প্রেস্টিজ থাকে না বলেই তারা এমনটা করেন। আবার, কিছু কিছু ফ্যান "না জানি কি শুনলাম রে, হেডব্যাং তো দিতে হইবোই" এইরকম ভেবেও হেডব্যাং দিয়ে থাকেন। কিন্তু, গিটারিস্টরা তাদের মেয়ে ভক্তদের সাধারণ রোমান্টিক হিন্দি গান শুনিয়ে থাকেন। কারণ, বেশীরভাগ মেয়ে ভক্তই হিন্দী রোমান্টিক গান, যেমন আশিকী ২ এর গান অথবা হাবীব বা আরফীন রুমীর বাংলা গান শুনতে ভালোবাসে।

গিটারিস্টরা বাই ডিফল্ট "ডোন্ট কেয়ার" মুডে থাকেন। কিন্তু, এক সমীক্ষায় জানা যায় তারা প্রেমিকা এবং বউদের অত্যন্ত কেয়ার করে থাকেন। গিটারিস্টরা সাধারণত ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে তাদের ছবি আপলোড করতে ভালোবাসেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে স্ট্যাটাস আপডেট করতে ভালবাসেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নারীর মন জয় করতে গিটার]
  2. সাজ্জাদ আরেফীন]
  3. Guitar Never Lies]
  4. বেজবাবা সুমন]
  5. আরফীন রুমি]
  6. এম.এ. জলিল অনন্ত]
  7. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]
  8. Brett Lee]